The Andaman Angle · Stories the islands must talk about
Read in: English | বাংলা | தமிழ்
এই বর্ষায় দ্বীপের সাপ্তাহিক ফ্লাইট প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে, একদিকের টিকিট ছাড়িয়েছে ₹২৮,০০০। ব্যবসায়ী সংগঠন, চেম্বার, রাজনৈতিক দল, সবাই চেয়েছে “আরও ফ্লাইট”। কিন্তু কতগুলো, কত ভাড়ায়, কবের মধ্যে, তা প্রায় কেউই বলেনি।
নাগরিক প্রতিবেদক, শ্রী বিজয়া পুরম (পোর্ট ব্লেয়ার)
অক্টোবর ২০২৬ · আন্দামান ইনসাইটস নাগরিক সাংবাদিকতা সিরিজ, গল্প ৩

গত বছর জুলাই-অগস্টে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপের সপ্তাহে প্রায় ৬২ থেকে ৭২টি ফ্লাইট ছিল। এ বছর একই সময়ে প্রায় ৩৬টি। এই হিসাব আমাদের সাংসদ বিষ্ণু পদ রায় ২১ অগস্ট ২০২৬ কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, চেন্নাই, কলকাতা বা দিল্লির একদিকের টিকিট প্রায়ই ₹২৮,০০০ বা তার বেশি ছোঁয়।
কংগ্রেস চায় ভাড়া ফিরুক আগের মতো ₹৩,০০০ থেকে ₹৪,০০০-এ। এ বছর যিনি টিকিট কেটেছেন, তিনি জানেন সেটা কত দূরে।
গল্প ২-এ প্রশ্ন ছিল, দ্বীপের পর্যটনের মালিক কে। এ সপ্তাহে: এখানে পৌঁছনোর দাম, আর যাঁদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি, তাঁরা কেন এত কম চেয়েছেন।
ফ্লাইট কীভাবে কমল
কাটছাঁট শুরু হয়েছিল বছরের গোড়াতেই। আন্দামান ক্রনিকল ১ এপ্রিল জানায়, স্পাইসজেট ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে চেন্নাই রুট বন্ধ করেছে, ইন্ডিগো ১ মার্চ থেকে চেন্নাই পরিষেবা স্থগিত করেছে, আর এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ১ মার্চ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চেন্নাইয়ের দুটি ফ্লাইট তুলে নিয়েছে। ভুবনেশ্বরের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে, বিশাখাপত্তনমও বন্ধ হওয়ার কথা ছিল, কলকাতার ফ্লাইটও কমেছে।
রাতে অবতরণের ব্যবস্থা চালু হয়েছে এক বছরেরও আগে, কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো সূচি তেমন বাড়ায়নি। দ্বীপের ফ্লাইট কমানোর কোনও প্রকাশ্য ব্যাখ্যা বিমান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আমি খুঁজে পাইনি।
একটা ভাড়া একটা দ্বীপের কী করে
আমাদের রাস্তা নেই, রেল নেই। কংগ্রেস বলছে, স্ট্রেচারে থাকা একজন রোগীর মূল ভূখণ্ডে যেতে এখন খরচ ₹৪.৫ থেকে ₹৫ লাখ। সাংসদ বলছেন, ১০ থেকে ২৫ টন রপ্তানিযোগ্য মাছ বিমানে যায়; কার্গোর জায়গা কমলে মাছ নষ্ট হয়, মৎস্যজীবীদের লোকসান হয়।
এরপর পর্যটন। কংগ্রেসের দাবি, হোটেলের ঘর খালি, নৌকা আর ট্যাক্সি অলস পড়ে, যাঁরা ঋণ নিয়ে এগুলো কিনেছিলেন সেই তরুণরা কিস্তি শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন AATO বলছে, চড়া ভাড়ায় পর্যটক আসা কমছে।
পর্যটক কি সত্যিই কমছে?
ন্যায্যতার খাতিরে বলি, সরকারি হিসাব উল্টো কথা বলে। উপরাজ্যপাল জানিয়েছেন, ২০২৫-এ রেকর্ড ৮.১৩ লাখ পর্যটক এসেছেন, আর ২০২৬-এর প্রথম ছয় মাসে সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ১৪.৫% বেশি। প্রশাসনের বেসিক স্ট্যাটিস্টিকস অনুযায়ী, বিমানবন্দরে যাত্রী ২০২২-২৩-এর ১২.৭৩ লাখ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫-এ ১৬.৫৭ লাখ হয়েছে।
অভিযোগগুলো কাটছাঁটের পরের মাসগুলো নিয়ে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাসিক পর্যটক সংখ্যা আমি খুঁজে পাইনি, তাই কোনও পক্ষের দাবিই যাচাই করা যাচ্ছে না। এই ফাঁকটাও সমস্যারই অংশ।
সবাই চেয়েছে “আরও ফ্লাইট”
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো হাত গুটিয়ে বসে ছিল না। AATO ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে, অগস্টে বিমানবন্দর অধিকর্তা, অসামরিক বিমান পরিবহণ সচিব ও মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করেছে। চেম্বার অফ কমার্স (ANCCI) জানিয়েছে, তারা উপরাজ্যপাল, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর কাছে গেছে। ANTOA ১৫ অক্টোবর উপরাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে; তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠকে ফ্লাইটের বিষয়টি তুলবেন।
এটা সত্যিকারের কাজ। কিন্তু দাবির তালিকাগুলো পড়ুন: আরও ফ্লাইট, আরও আসন, রাতের ফ্লাইট, “যুক্তিসঙ্গত” ভাড়া। কোথাও লেখা নেই যুক্তিসঙ্গত ভাড়া কত, বর্ষায় অন্তত কটা ফ্লাইট চাই, বা কবের মধ্যে।
নির্দিষ্ট প্রস্তাব এসেছে অন্য জায়গা থেকে। কংগ্রেস নেতা টিএসজি ভাস্কর প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রশাসন আগাম আসনের ব্লক কিনে দ্বীপবাসীদের নির্দিষ্ট ভাড়ায় দিক; আগে তিনি ২৫% আসন ভর্তুকিতে দেওয়ার দাবিও করেছিলেন। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, আগের একটি চার্টার টেন্ডার বাতিল হয়ে গিয়েছিল। আন্দামান ক্রনিকলের একটি লেখায় পিক মরসুমে ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা ও ন্যূনতম পরিষেবার কথা বলা হয়েছিল।
৩ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস বিমানবন্দরে প্রতিবাদ ডাকলে, কয়েকটি সংগঠন এটাকে রাজনৈতিক মনে হতে পারে বলে আপত্তি তোলায় দলটি নিজেদের পতাকা বাদ দেয়। ভাস্কর বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক গোষ্ঠী জোরালোভাবে এগিয়ে আসেনি। শেষ পর্যন্ত কারা এসেছিলেন, তার কোনও প্রতিবেদন আমি পাইনি। আর ট্যাক্সিচালক, নৌকার মাঝি, লন্ড্রিকর্মী, যাঁদের নাম প্রতিটি ভাষণে ওঠে, তাঁদের নিজেদের নামে কোনও বিবৃতি আমি খুঁজে পাইনি।
সবাই আরও ফ্লাইট চেয়েছে। কতগুলো, কত ভাড়ায়, কবের মধ্যে, তা প্রায় কেউই বলেনি।
কেন্দ্র কী বলছে
২৩ জুলাই ২০২৬ লোকসভায় প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহোল জানান, ১৯৯৪ থেকে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণমুক্ত। এয়ারক্রাফট রুলসের ১৩৫ নম্বর নিয়মে বিমান সংস্থাগুলো নিজেরাই ভাড়া ঠিক করে। সরকার হস্তক্ষেপ করে কেবল “অসাধারণ পরিস্থিতিতে”; কোভিড, মহাকুম্ভ, পহেলগাঁওয়ের পরে এবং ইন্ডিগোর বিপর্যয়ের সময় সাময়িক ভাড়ার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। DGCA প্রতি মাসে ৭৮টি রুটের ভাড়া নজরে রাখে। তার মধ্যে দ্বীপের কোনও রুট আছে কি না, আমি খুঁজে পাইনি।
ডিসেম্বরের প্রতিশ্রুতি
অগস্টের শেষে চেম্বার জানায়, সাপ্তাহিক ফ্লাইট বেড়ে হবে সেপ্টেম্বরে প্রায় ৮৮, অক্টোবরে ১২৬, নভেম্বরে ১৪৭ আর ডিসেম্বরে ১৭৫-এর বেশি। এই সংখ্যা কে দিয়েছে, তা বলা হয়নি। মিলে গেলে ভালো খবর। মিলিয়ে দেখা দরকার।
কী বদলাতে হবে, আর কে বদলাবে
প্রশাসন
- ফ্লাইট, আসন আর পর্যটক আসার মাসিক হিসাব প্রকাশ করুক, যাতে ভাড়া আর ভিড় নিয়ে তর্ক তথ্য দিয়ে হয়।
- আগের চার্টার টেন্ডারের কী হয়েছিল তা জানাক, আর দ্বীপবাসী, রোগী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়ায় আসন-ব্লকের একটি প্রকল্প খতিয়ে দেখুক।
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ও DGCA
- DGCA যে রুটগুলোর ভাড়া নজরে রাখে, তাতে দ্বীপের রুট যোগ করুক, আর ফল প্রকাশ করুক।
- যে রুটে রাস্তা বা রেলের বিকল্প নেই, সেখানে বর্ষায় আসন ধসে পড়াকে নিয়মে থাকা “অসাধারণ পরিস্থিতি” হিসেবেই দেখুক।
ব্যবসায়ী সংগঠন ও সমিতি
- দাবিতে সংখ্যা লিখুন: বর্ষায় সপ্তাহে ন্যূনতম কটা ফ্লাইট, ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা, একটা তারিখ। ডিসেম্বরে চেম্বারের নিজের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকাশ্যে হিসাব দিন।
- ট্যাক্সি, নৌকা, লন্ড্রির কর্মীদের সংগঠনকে টেবিলে বসতে দিন, নিজেদের নামে কথা বলতে দিন।
আবার সেই টিকিটে
একদিকে ₹২৮,০০০। মরসুমে ফ্লাইট হয়তো ফিরবে, প্রতি বছর যেমন ফেরে। প্রশ্ন হল, আগামী জুনে আমরা কি আবার “আরও” চেয়ে চিঠি লিখব, নাকি কেউ লিখে রাখবে “যথেষ্ট” মানে ঠিক কতটা।
আগামী সপ্তাহে: এনএইচ-৪ আর ভরতপুরের রাস্তা।
আন্দামান ইনসাইটসের পক্ষ থেকে: আমরা এই প্ল্যাটফর্ম শুরু করেছি প্রভাব তৈরির জন্য, শুধু আয়ের জন্য নয়। আমরা দ্বীপবাসী, নিজেদের ঘরের কথা লিখি। আপনি যদি শিক্ষক, অভিভাবক বা এমন কোনও গল্পের তরুণ হন, আমরা শুনতে চাই।
সূত্র
- আন্দামান শীখা, ২১ অগস্ট ২০২৬: বিমান যোগাযোগ ও ভাড়া নিয়ে সাংসদের জরুরি পদক্ষেপের দাবি
- আন্দামান শীখা, ২৫ অগস্ট ২০২৬: বিমানভাড়া ও পর্যটন নিয়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদের ডাক
- আন্দামান শীখা, ৩১ অগস্ট ২০২৬: বিমানবন্দরের বাইরে প্রতিবাদ; আসন-ব্লকের প্রস্তাব
- নিকোবর টাইমস, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শ্রী বিজয়া পুরম বিমানবন্দরে কংগ্রেসের ধরনা
- নিকোবর টাইমস, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সফররত সংসদীয় কমিটির কাছে স্মারকলিপি
- আন্দামান ক্রনিকল, ১ এপ্রিল ২০২৬: বিমান সংস্থাগুলোর আচমকা সরে যাওয়া
- দ্য ওয়েভ আন্দামান, ৯ এপ্রিল ২০২৬: বিমানভাড়া ও ফ্লাইট কাটছাঁট
- দ্য ওয়েভ আন্দামান, ৩১ জুলাই ২০২৬: রাতে অবতরণ সত্ত্বেও ফ্লাইট সীমিত
- আন্দামান শীখা, ১৬ অগস্ট ২০২৬: উপরাজ্যপালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ
- অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান অধিদপ্তর, আন্দামান ও নিকোবর, বেসিক স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৪-২৫, অধ্যায় ২০: অসামরিক বিমান পরিবহণ
- নিকোবর টাইমস, ১ অগস্ট ২০২৬: প্রধানমন্ত্রীকে AATO-র চিঠি
- আন্দামান শীখা, ২৪ অগস্ট ২০২৬: আধিকারিকদের সঙ্গে AATO প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
- নিকোবর টাইমস, ২৯ অগস্ট ২০২৬: সাপ্তাহিক ফ্লাইট নিয়ে ANCCI-র পূর্বাভাস
- দ্য ওয়েভ আন্দামান, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: উপরাজ্যপালের সঙ্গে ANTOA-র সাক্ষাৎ
- কাশ্মীর লাইফ, ২৩ জুলাই ২০২৬: বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণমুক্ত, লোকসভায় উত্তর (অতারকাচিহ্নিত প্রশ্ন ৯০২)
দ্য আন্দামান অ্যাঙ্গেল থেকে আরও পড়ুন। এটি আমাদের নাগরিক সাংবাদিকতা সিরিজের গল্প ৩। বাকি গল্প পড়ুন দ্য আন্দামান অ্যাঙ্গেল-এ, দ্বীপের সাপ্তাহিক ব্যবসার খবর পান আন্দামান বিজনেস উইকলি-তে, অথবা প্রতিটি গল্প পেতে বিনামূল্যে সাবস্ক্রাইব করুন।

Follow The Andaman Angle
Stories the islands must talk about.
Subscribe
Get the next story in your inbox
Business intelligence, news and opinion from Andaman Insights and The Andaman Angle. Free. No spam — unsubscribe any time.
